"শিক্ষা ও নৈতিকতার সংকট"
![]() |
| Collected image |
বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার গ্রামে অবস্থিত **ইলুহার বিহারী লাল একাডেমী** বিদ্যালয়টি ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি শিক্ষার একটি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির জন্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এটি নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানের অবক্ষয়, শিক্ষকদের অবহেলা, এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হয়ে চলেছে।
শিক্ষার্থীদের সংকট: গাইড বই কেনার বাধ্যবাধকতা
বর্তমানে, বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করছেন, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সরকার বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করে এবং গাইড বই কেনার চাপ সৃষ্টি করা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এবং শিক্ষা নীতিমালার লঙ্ঘন করে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের অভিভাবকরা সাধারণত আর্থিকভাবে দুর্বল, তাই তারা এই চাপের সম্মুখীন হলে নিজেদের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটাচ্ছেন।
অন্যদিকে, বিদ্যালয়ে কোনো গণিত শিক্ষক নেই, যা শিক্ষার্থীদের গণিত শেখার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। এই বিষয়ে শিক্ষকদের মধ্যে আলোচনা করলে দেখা যায়:
- **সৈয়দ মাহবুবুর রহমান** (প্রধান শিক্ষক)
- **সুধাংশু কুমার মন্ডল** (সহকারী প্রধান শিক্ষক)
- **এস এম আব্দুল হক নেছারী** (সহকারী শিক্ষক, ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা, কিছুদিন পূর্বে রিটায়ার্ড)
- **দিলীপ কুমার বড়াল** (সহকারী শিক্ষক, জীব বিজ্ঞান)
- **মোসাঃ খাদিজা** (সরকারি শিক্ষক, সামাজিক বিজ্ঞান)
- **শিপ্রা সরখেল** (সহকারী শিক্ষক, হিন্দু ধর্ম শিক্ষা)
- **কবির আহমেদ** (সহকারী শিক্ষক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি)
- **মোহাম্মদ এমরান আকন** (সহকারী শিক্ষক, ব্যবসায় শিক্ষা)
- **দেবব্রত বড়াল** (সহকারী শিক্ষক, শারীরিক শিক্ষা)
- **মাসুমা পারভীন** (সহকারী শিক্ষক, কৃষি শিক্ষা)
- **রিপন বিশ্বাস** (সহকারী শিক্ষক, গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান)
- **অচিন্ত কুমার রায়** (সহকারী শিক্ষক, বাংলা)
- **রাম বাবু রায়** (সহকারী শিক্ষক, ইংরেজি)
এখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, বিদ্যালয়ে গণিত শিক্ষক নেই। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মৌলিক গণিত শিক্ষা লাভের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর।
শারীরিক শিক্ষার অযোগ্যতা
শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে দেবব্রত বড়াল গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো, বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালের বিষয়গুলো, পড়াচ্ছেন না, যার কারণে শিক্ষার্থীরা শারীরিক শিক্ষার মৌলিক বিষয়গুলো বুঝতে পারছে না। এই অবস্থায় শিক্ষকদের অযোগ্যতা স্পষ্ট।
বন্ধ থাকা ওয়াশরুম
বিদ্যালয়ের ছেলেদের ওয়াশরুম দীর্ঘ এক থেকে দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। পূর্বে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা ট্যাপ কল ভেঙে ফেললে, পুরো ওয়াশরুম বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ছাত্ররা তাদের প্রাকৃতিক চাপ নিবারণের জন্য বিদ্যালয়ের পেছনে যেতে বাধ্য হচ্ছে, যা সামাজিকভাবে অমানবিক ও অসম্মানজনক।
স্কাউট টিম গঠন
বিদ্যালয়ে একটি স্কাউট টিম গঠন করা হয়েছে, তবে স্কাউটের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাচ সরবরাহ করা হচ্ছে না। এর ফলে, এই স্কাউট টিম কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না।
ল্যাবরেটরি ব্যবস্থা
বিদ্যালয়ে কোনো ল্যাবরেটরি নেই, অথচ সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সরঞ্জামগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করছে না, যা শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।
![]() |
| Iluher Behari-lal Academy |
Image collect from: Iluher Behari-Lal Academy High school ( Facebook )
ম্যানেজিং কমিটি
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নাম ও পদাবলির তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
- **দেবী কীর্ত্তনীয়া** (সভাপতি)
- **সৈয়দ মাহবুবুর রহমান** (সদস্য সচিব)
- **দেব দুলাল বড়াল** (দাতা সদস্য)
- **নরেন্দ্রনাথ বাড়ৈ** (বিদ্যোৎসাহী সদস্য)
- **এস এম আব্দুল হক নেছারী** (শিক্ষক সদস্য, কিছুদিন পূর্বে সে শিক্ষকতা থেকে রিটায়ার্ড করেছে)
- **মোঃ এমরান আকন** (শিক্ষক সদস্য)
- **শিপ্রা সরখেল** (সংরক্ষিত মহিলা শিক্ষক সদস্য)
- **চঞ্চল তহসিলদার** (অভিভাবক সদস্য)
- **আব্দুল মালেক** (অভিভাবক সদস্য)
- **রতন কুমার ঘরামী** (অভিভাবক সদস্য)
- **লিপি আক্তার** (অভিভাবক সদস্য)
- **স্মৃতি পাড়** (সংরক্ষিত মহিলা অভিভাবক সদস্য)
আইনগত ব্যবস্থা
এই সকল সমস্যার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতি এবং অবহেলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিভাবকরা এবং শিক্ষার্থীরা নিচের আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারেন:
1. **শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ**: অভিভাবকরা বা শিক্ষার্থীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
2. **ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ**: গাইড বই কেনার জন্য বাধ্য করা হলে, অভিভাবকরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে পারেন।
3. **স্থানীয় শিক্ষা অফিসে অভিযোগ**: অভিভাবকরা স্থানীয় উপজেলা বা জেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ জানাতে পারেন।
4. **আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা**: সমস্যাগুলো সমাধান না হলে, অভিভাবকরা আইনজীবীর সাহায্য নিয়ে মামলা করতে পারেন।
5. **গণমাধ্যমের সাহায্য**: এসব সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় গণমাধ্যমের সহায়তা নেয়া যেতে পারে।
![]() |
| AI generate image |
এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি সুষ্ঠু শিক্ষা পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর। বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যাতে শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা যায় এবং তারা সঠিকভাবে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানাতে হবে, যাতে তাদের সন্তানদের জন্য একটি সুষ্ঠু শিক্ষা পরিবেশ তৈরি হয়।
এখন সময় এসেছে এই বিদ্যালয়ের সমস্যা নিয়ে চিন্তা করার এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আমাদের হাতে; আসুন আমরা সবাই মিলে একটি সুষ্ঠু ও নৈতিক শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলি।
শিক্ষকদের গোপনীয়তা ফাঁস করার জন্য দুঃখিত
😭😭😭😭😭😭😭😭😭 😭😭😭😭😭😭
আমরা (EDUCATION BANGLA) টিমের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত শিক্ষকদের এবং কর্মীদের নাম প্রকাশ করার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমাদের উদ্দেশ্য কখনওই তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা নয়, বরং বিদ্যালয়ের কার্যক্রমের গুরুতরতা তুলে ধরা। এই সকল কর্মকান্ডের কারণে তাদের পরিচয় প্রকাশিত হওয়া নিশ্চিত করেছে যে, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার মানের প্রতি অবহেলা, অবজ্ঞা, এবং অনীহা বিদ্যমান।
আমরা আশা করি, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শীঘ্রই শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়া জরুরি, যাতে তারা নিজেদের এবং তাদের সন্তানদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকেন।
অবশেষে,
আসুন আমরা সবাই মিলে একটি সুষ্ঠু ও নৈতিক শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে সচেষ্ট হই। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং তাদের অধিকার রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
.jpeg)


0 Comments