রাজধানীর ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অমানবিক নির্যাতনের শিকার কল্পনা (১৩) নামের এক কিশোরী গৃহকর্মী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নির্যাতনের শিকার এই কিশোরীর চিকিৎসার খোঁজ নিতে রবিবার দুপুরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ ঢামেকের বার্ন ইউনিটে যান। 
সংগৃহীত ছবি


অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ কিশোরী কল্পনার সঙ্গে দেখা করে তার অবস্থার খোঁজ নেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, "একজন সুস্থ মানুষ এ ধরনের নির্যাতন করতে পারে না। দেশের প্রায় পাঁচ লাখ শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। গত সাড়ে চার বছর ধরে এই শিশু এভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে—এটি আমাদের সমাজের জন্য এক বিশাল দুর্ভাগ্য।"

চেয়ারম্যান আরও জানান, "শিশু শ্রমিকদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়নের প্রস্তাব আমরা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। ১৩ বছর বয়সী কিশোরীটি যেভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়েছে, তা অমানবিক। দেশের আইন অনুযায়ী, ১৪ বছরের নিচে কোনো শিশুকে শ্রমিক হিসেবে নিযুক্ত করা বেআইনি। এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান নিতে হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।"

তিনি আরও জানান, ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা হয়েছে এবং অভিযুক্ত গৃহকর্ত্রী জিনাত জাহানকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নির্যাতিত কিশোরীর চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা প্রদান করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, "শিশুটির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাকে বার্ন ইউনিটের অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। কিছু সময়ের মধ্যেই তাকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হবে।"

নির্যাতনের ভয়াবহতা:
কিশোরী কল্পনা জানায়, তাকে দিনের পর দিন ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না এবং প্রতিদিনই কোনো না কোনো অজুহাতে শারীরিক নির্যাতন করা হতো। বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও তাকে দেওয়া হয়নি। জিনাত জাহান নামের এক গৃহকর্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে তাকে শারীরিক নির্যাতন করছিলেন বলে অভিযোগ করে কিশোরীটি। এক সংবাদকর্মীর সহায়তায় গত শনিবার ভাটারা থানা পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে এবং জিনাত জাহানকে গ্রেপ্তার করে।

উদ্ধার ও গ্রেপ্তার:
ভাটারা থানা পুলিশ জানায়, গত চার বছর ধরে গৃহকর্ত্রী জিনাত জাহান কিশোরী কল্পনাকে নানাভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। অবশেষে কিশোরীটির করুন অবস্থার কথা জানতে পেরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে এবং গৃহকর্ত্রীকে আটক করে।

এ ঘটনার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে, এবং কিশোরী কল্পনার সুরক্ষায় সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। 



সংবাদের মূল ভিত্তি সংগ্রহdhakapost.com