সাহস নিয়ে উদ্যোক্ত হবো, থাকবো সবাই সুখে কর্মহীনে কর্ম দিব, বেকারত্ব দিবো রুখে 
আমাদের জীবন যাপনের জন্য বিভিন্ন দ্রব্য ও সেবার প্রয়োজন হয়। আর এসব প্রয়োজন পূরণ করতে ব্যবসায়ীরা নিত্যনতুন ব্যবসায়িক আইডিয়া নিয়ে কাজ করেন। একটি পরিবারে বিভিন্ন বয়সের মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে থাকে। যেমন: শিশুদের জন্য হয়তো শিশু খাদ্য, কাপড়, খেলনা; কিশোরদের জন্য খেলার সামগ্রী, শিক্ষার সামগ্রী; গৃহস্থলীর জন্য চাল, ডাল,আটা ইত্যাদি পন্য; বয়স্কদের জন্য হয়তো বিভিন্ন ধরনের ঔষধ ইত্যাদি প্রয়োজন হয়। আবার নিজেদের প্রয়োজন ছাড়া গৃহপালিত পশু পোষা প্রাণীর জন্য বিভিন্ন পণ্য, সব পূরণের বাগান করতে বা খেলাধুলার জন্য অন্যান্য জিনিস প্রয়োজন হয়। আবার বিভিন্ন পণ্য বা সেবা উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন পণ্য বা সেবার প্রয়োজন হয়। যেমন: কৃষি পণ্য উৎপাদনের সার, কীটনাশক, বীজ, কৃষি শ্রমিক ইত্যাদির প্রয়োজন হয়; নির্মাণ ব্যবসায়ী ইট, সিমেন্ট,পাথর,বালু, নির্মাণ শ্রমিক ইত্যাদি প্রয়োজন হয়। এভাবে ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা পুরনো সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের আশেপাশে আমরা বিভিন্ন ব্যবসায় উদ্যোগ দেখতে পাই।
ব্যবসার পরিকল্পনা


প্রতিটি ব্যবসার আইডিয়া এক একটা চাহিদা পূরণ করাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়। কোন ব্যবসার যদি সুবিধাভোগী বা ক্রেতা না থাকে, তাহলে সেই ব্যবসা স্থায়ী বা টেকসই হয় না। অনেকেই ব্যবসা শুরু করে তাদের নিজেদের এলাকার স্থানীয় পণ্য বা হাতের কাছে পাওয়া যায় এমন সব সামগ্রী দিয়ে। দেখা যায় যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়লে ধীরে ধীরে উক্ত ব্যবসা স্থায়ী বাজার ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। 

চলো এমন কিছু সফল ব্যবসায় সম্পর্কে জানি--

কেস ১:-বাদল মান্ডি পঞ্চগড় জেলার একটি স্কুলের শিক্ষার্থী এবং সে ছবি তুলতে খুব ভালোবাসে। গতবছর সেই স্কুল থেকে স্কাউট জাম্বুরিতে গিয়েছিল। সেখানে তার অনেক নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্দেশ্যে স্কাউট ভিত্তিক একটি অনলাইন গ্রুপের সঙ্গে সে যুক্ত হয়। পঞ্চগড়ের সমতলভূমির চা বাগান তার খুব পছন্দ। সে এখানকার চা বাগানের ছবি তুলে, কিভাবে চা পাতা থেকে চা তৈরি হয় সেসব ছবি তুলে এবং স্থানীয় বাজারে সে খুব ভালো মানের চাপ পাওয়া, সেই তথ্য সহকারে ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে। সে পোস্টগুলো এসকর্ট গ্রুপেও শেয়ার করে এবং সারা দেশের অনেক বন্ধু এই ছবি দেখে খুব পছন্দ করে এবং তার মাধ্যমে পঞ্চগড়ের চা কেনার আগ্রহ জানায়। বাদল প্রথমে বুঝতে পারছিল না কিভাবে তার বন্ধুদের ইচ্ছা পূরণ করা যায়! তাই সে তার বাবার সঙ্গে আলোচনা করে এবং স্থানীয় চা বাজার থেকে কয়েক কেজি চা করার করে আলাদা আলাদা প্যাকেট করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে কয়েকজন বন্ধুকে পাঠিয়ে দেয়। 
বন্ধুরা তার পাঠানো চায় খুব পছন্দ করে, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে চায়ের মূল্য পরিশোধ করে। পাশাপাশি অনলাইন প্রশ্ন তার পাঠানো চায়ের খুব প্রশংসা করে। সেই সূত্র ধরে বাদলের কাছে আরো অনেক অর্ডার করতে থাকে। বাদল পড়াশোনার পাশাপাশি তার শখকে একটি ছোট্ট ব্যবসায় রূপান্তর করলো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আলাদা পেজ খুলেন নাম দিল "দ্যা গ্রেট টি ফ্লেভার ফ্রম পঞ্চগড়"। সেখানে বিভিন্ন ধরনের চায়ের ছবি, চায়ের মূল্য ও যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল ফোন নম্বর দিল। এরপর তার তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পেজ থেকে দেশ-বিদেশের অর্ডার নিয়ে পঞ্চগড়ের সবচেয়ে ভালো মানের চাঁদ সংগ্রহ করে ঠিকানা অনুযায়ী পাঠিয়ে দেয়। সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চাষ সরবরাহের ব্যাপারে সে সবসময় সতর্ক থাকে এবং ন্যায়সঙ্গত যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিত করে। ফলে গ্রাহক ও সন্তুষ্ট হয়ে বারবার পেজে নক করে। সততা তার খুদে ব্যবসাকে কিছুদিনের মধ্যেই বেশ বিস্তৃত করে তোলে। ব্যবসার কাজে তাকে সহযোগিতা করে তার পরিবারের সবাই। পণ্য সরবরাহ ও কুরিয়ার করার জন্য একজন দক্ষ কর্মীও নিয়োগ দিয়েছে তারা।
চা-বাগান

গল্পটি থেকে আমরা দেখলাম, কিভাবে নিজেদের বুদ্ধিমত্তা, স্থানীয় সম্পদ ও সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা তাদের ব্যবসায়িক আইডিয়াকে বাস্তবায়ন করেছে। যে যে এলাকাতেই থাকি না কেন, কিছু না কিছু স্থানীয় সম্পদ থাকে, যা ব্যবহার করে আমরা একটা ব্যবসায়িক আইডিয়া পেতে পারি। আবার শহরের ক্ষেত্রে স্থানীয় সম্পদ সমানভাবে না থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের পণ্য বা সেবার চাহিদা বের করতে পারলে অন্যান্য এলাকা বা উৎস থেকে সেসব সংগ্রহ করে তার যোগান দেওয়া যেতে পারে।
তবে এটা মনে রাখা জরুরি, যে কোন আইডিয়া বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সততা, আগ্রহ, সঠিক দিক নির্দেশনা, মামত্ববোধ ও ধৈর্য নিয়ে টিকে থাকার মানসিকতা জরুরি। ভোক্তা কে ঠকিয়ে কিংবা মানহীন পণ্য দিয়ে অথবা অতিরিক্ত মূল্য আদায় করে কখনো ব্যবসায় প্রসার ঘটানো সম্ভব নয়। মনে রাখতে হবে চাহিদা অনুযায়ী ও সময়মতো মানসম্মত পণ্য ন্যায্য মূল্যে ভক্তার হাতে পৌঁছাতে সক্ষম হওয়ায় ব্যবসার সফল হওয়ার চাবিকাঠি। তবে সবাই প্রথমবারেই ব্যবসায়িক আইডি দিয়ে বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং সফল হবেন তা কিন্তু নয়। ব্যবসায় লাভ ক্ষতি আছে আবার সাফল্য ব্যর্থতা আছে। সেখান থেকে কারণ খুঁজে বের করে নতুনভাবে আইডিয়া সাজাতে হবে। যেকোনো ঝুঁকি মোকাবেলার সাহস ও ধৈর্য থাকতে হবে। আত্মবিশ্বাস ও বিচক্ষণতা দিয়ে নতুন নতুন সম্ভাবনাকে সফল করার মানসিকতা অর্জন করতে হবে। 

তবে কোন কিছু বাস্তবায়নের আগে দারুন একটি আইডিয়া প্রয়োজন। তাই আমরা এবার আমাদের আশেপাশের স্থানীয় সম্পদ, বাজার বিশ্লেষণ করে এবং পরিবার ও সমাজের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে নিজেরা কিছু ব্যবসায়ীর আইডিয়া তৈরি করব। নিজেরা পরিবারের সাথে আলোচনা করে বিভিন্ন আইডিয়া বের করো। আইডিয়াটা কতটুকু বাস্তবসম্মত সেটা বুঝতে হলে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। 
সেগুলো হলো:
১. ব্যবসাটি কিসের? পন্য নাকি সেবা? 
২. ব্যবসাটির কোনো সম্ভাব্য ক্রেতা আছে কিনা? থাকলে তারা কার? 
৩. পণ্য বা সেবার উৎস কি? 
৪. স্থানীয় বাজারে অন্য কেউ এটি ইতোমধ্যে সরবরাহ করেছেন কিনা? 
৫. ব্যবসাটি লাভজনক হবে কিনা? 
৬. ব্যবসাটির দ্বারা সমাজ বা দেশের কোন ক্ষতি হবে কিনা? 
৭. ব্যবসাটি পরিবেশের উপর কোন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে কিনা? 
৮. প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মত নতুনত্ব আছে কিনা? 
এই বিষয়গুলো বিবেচনা করে একটি ব্যবসায়ীর আইডিয়া প্রস্তুত করতে হবে। কোন ধরনের ব্যবসা করবে, ব্যবসাটি তোমার এলাকায় কতটা প্রভাব বিস্তার করবে, কোথা থেকে তুমি তোমার ব্যবসার পণ্য সংগ্রহ করবে, ব্যবসাটির দ্বারা সমাজ বা দেশের কোন ক্ষতি না হয় এমন একটি ব্যবসা নির্বাচন করবে, তোমার নির্বাচিত ব্যবসা থেকে পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেললে সেই ব্যবসাটি তোমাকে বাদ দিতে হবে। কারণ, নিজেদের পরিবেশ রক্ষা আমাদের নিজেদের কর্তব্য! এমন একটি ব্যবসা নির্বাচন করব আমরা যার ফলে সমাজ দেশ দেশের মানুষ এবং পরিবেশ ও পরিবেশের সকল প্রাণীদের উপর যেন কোন প্রকার খারাপ প্রভাব না ফেলে। এইসব বিষয় বিবেচনায় রেখে নিজেদের পছন্দমত একটি ব্যবসায়ের আইডিয়া কর। 
উক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করে যদি একটি ব্যবসায়িক আইডিয়া প্রস্তুত করো, তাহলে তুমি অবশ্যই তোমার ব্যবসায় লাভ বান হতে পারবে। তবে মনে রাখবে, ব্যবসা করতে হলে ধৈর্য, সততা, আগ্রহ, সঠিক নির্দেশাবলী এবং সঠিক মূল্য নির্ধারণ করে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে!
ব্যবসায় উন্নতি


EDUCATION BANGLA