আমাদের চারপাশে এমন অনেক পেশাজীবী দেখতে পাই, যারা হাতে কাজ করেন, মেশিন পরিচালনা করেন, সুপারভাইস করেন, প্রসেসিং করেন, প্যাকেটিং সহ অনেক কাজ করে থাকেন। তোমরা কি জানো, তারা কোথায় পড়াশোনা করেছেন? কোথা থেকে এ ধরনের কাজের যোগ্যতা এবং দক্ষতা অর্জন করেছেন? তাদের এই দক্ষতা গুলো হলো কারিগরি বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা। মূলত প্রযুক্তির সান্নিধ্যে থেকে হাতে-কলমে বা বাস্তবে কাজ করাই হলো কারিগরি শিক্ষা।

সংগৃহীত চিত্র

এই শিক্ষার মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি, শিল্প, কৃষি ও কলকারখানার যন্ত্রপাতি ব্যবহারের জন্য আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আমাদের দেশে এমন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখান থেকে এ ধরনের যোগ্যতা এবং দক্ষতা অর্জন করা যায়। এক কথায় বলা যায়, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ হলো(Technical and Vocational Education and Training বা TVET)

আমাদের বিদ্যমান শিক্ষাক্রম এর একটি ধারা, যেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থীকে চাকরি বা কর্মসংস্থানের জন্য উপযোগী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা হয়। কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীল হওয়ার উপায় সম্পর্কে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও অনুশীলন করানো হয়। কর্মী ও কর্ম ও পরিবেশের নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কিভাবে সতর্কতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে তাও হাতে কলমে শেখানো হয়। উন্নত দেশগুলোতে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে শিল্প ও কৃষিতে বিপ্লব ঘটানো হয়েছে। উৎপাদনমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উপকরণ ব্যবহার ও কৌশল প্রয়োগ করে জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে এবং স্বনির্ভরতা অর্জনে সরাসরি সহায়তা করে কারিগরি শিক্ষা। বাংলাদেশে বর্তমানে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানসহ বৃত্তিমূলক মোট ২৫১৭ টি, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অধীনে ৯৮ টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ৭০০০ বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাছাড়া প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ, মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান তৈরীর কাজ চলমান রয়েছে। কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মূলত পলিটেকনিক বা মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট , টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত রেজিস্টার্ড অর্গানাইজেশন, ভোকেশনাল টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ইত্যাদি হিসেবে পরিচিত। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন ধরনের স্বল্প মেয়াদী বা দীর্ঘমেয়াদী কোর্স করা যায়। 
কারিগরি শিক্ষা নিলে, বিশ্বজুড়ে কর্ম মিলে


কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় ক্যারিয়ার গড়া

আমরা এবার জেনে নিই, কখন এবং কিভাবে এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হওয়া যায়। প্রথমত আমরা যারা কারিগরি জ্ঞান-দক্ষতা পছন্দ করি, যারা লেখাপড়ার পাশাপাশি দ্রুত কর্মজগতে প্রবেশ করতে চাই, তারা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে ভিত্তি হিসেবে নিতে পারি। টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ( টিএসসি )থেকে অষ্টম শ্রেণী পাস করে দুই বছর মেয়াদী এসএসসি ভোকেশনাল এবং এসএসসি( ভোকেশনাল) পাস করে দুই বছর মেয়াদি এইচএস সি ভোকেশনাল কোর্সে আমরা যে কোন টিএসসি তে ভর্তি হতে পারবো। বর্তমানে বাংলাদেশে ১০৪টি (টিএসসি) রয়েছে এবং আরও নতুন টিএসসি (৩২৯টি) তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এসএসসি বা এইচএসসি পাস করার পর যে কোন শিক্ষার্থী ইচ্ছা করলে চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হতে পারবে। বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারি ৫০ টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট রয়েছে। এর সঙ্গে সরকার আরো ২৩ টি নতুন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট তৈরির কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। চারটি বিভাগে মেয়েদের জন্য বিদ্যমান পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সঙ্গে আরও নতুন চারটির কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের রয়েছে চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। আরো চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে। কৃষি বিষয়ক শিক্ষার জন্য ১৮ টি সরকারি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রয়েছে। এছাড়া ৫২৭টি রেজিস্টার্ড ট্রেনিং অর্গানাইজেশন দ্বারা স্বল্প মেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে দক্ষতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। চার মাস মেয়াদি এসব কোর্সে সফলতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ শেষে দেওয়া হয় জাতীয় দক্ষতা মানসম্পন্ন সনদপত্র। এই সনদপত্র দিয়ে দেশে এবং বিদেশে কর্ম জগতে প্রবেশ করা অনেক সহজ। কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেও স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহীরা বছরের বিভিন্ন সময় ভর্তি হতে পারে। মজার বিষয় হল, অষ্টম শ্রেণি পাস করার পরই এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া যায় এবং স্বল্প মেয়াদী বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ নেওয়া যায়।
সংগৃহীত চিত্র
Join Facebook group

📖📖📖


💗💗💗

EDUCATION BANGLA