আজ শুধু অঙ্কুরিত, জানি কাল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাতা
উদ্দাম হাওয়ার তালে তাল রেখে নেড়ে যাবে মাথা;
তারপর দীপ্ত শাখা মেলে দেব সবার সম্মুখে
ফোটাব বিস্মিত ফুল প্রতিবেশী গাছেদের মুখে।
কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মতো আমরাও জানি, আমাদের মাঝে রয়েছে অনেক সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনা বিকশিত হয় এক সময় সবার মুখে হাসি ফোটাবে। সৃষ্টিকর্তা সবার মাঝেই অপার সম্ভাবনা দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। শুধু প্রয়োজন সেই সম্ভাবনার জায়গাটুকু খুঁজে বের করা। প্রত্যেকেরই কোন না কোন বিশেষ কাজে রয়েছে বিশেষ দক্ষতা। তাই আমাদের কাজ হল, নিজেকে আবিষ্কার করা। কি আছে নিজের মাঝে তা খুঁজে বের করে সেই গুণের নিয়মিত পরিচর্যায় আমরাও হয়ে উঠতে পারি আগামী শতকের সফল ব্যক্তিদের একজন!!
![]() |
| চিত্র;কাজে সফল হওয়ার আনন্দ |
আমরা সবাই কি সব ধরনের কাজ করতে পারি? নিশ্চয়ই না, আমাদের মধ্যে কেউ ছিলো গণিতে খুব ভালো, কেউ ছিল বিজ্ঞানটা ভালো বোঝে, আবার কেউ ছিল ইতিহাসে দারুণ মজা পায়, আবার আমাদের মাঝে কেউ খুব ভালো কথা বলে, কেউ ভালো লেখে, কেউ ভালো আঁকে, কেউ ভালো আবৃত্তি করে, কেউ ভালো নাচতে কিংবা কেউ ভালো গাইতে পারে। একেকজন একেক কাজ ভালো পারে বা করে। বৈচিত্র্যময় পৃথিবীতে মানুষের রয়েছে বৈচিত্র্যময় গুণ সামর্থ এবং আগ্রহের ক্ষেত্র। আমরা সবাই একজন থেকে অন্যজন বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকেই আলাদা। নিজের পছন্দ, আগ্রহ, গুণ ও সামর্থের ওপর ভিত্তি করে তাই প্রত্যাশা সাজাতে হয়। তাহলে নিজের উপর আত্মবিশ্বাস এবং প্রত্যাশা পূরণের সংকল্পবদ্ধ হয়ে কাজ করার স্পৃহা তৈরি হয়। আমরা এবার নিজেকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করব; খুঁজে বের করব কি আছে আমার মাঝে!!
তাহলে আপনি এখন একটি খাতা ও একটি কলম নিয়ে মাথা ঠান্ডা করে নীরব একটি স্থানে বসে পড়ুন। এবার লেখা শুরু করুন আপনার পছন্দের কাজ এবং আপনার অপছন্দের কাজ গুলো। আপনার পছন্দের কাজ এবং অপছন্দের কাজ কি আলাদা করে ফেলুন। এতে করে আপনার মধ্যে কোন প্রতিভা রয়েছে বা আপনার কোন কাজে প্রতি আগ্রহ বেশি সেটা বোঝা সহজ হয়ে উঠবে।
আমার আগ্রহ, সামর্থ্য ও মূল্যবোধ
আমরা বিভিন্ন গল্প দেখেছি, প্রত্যেক ব্যক্তির মাঝেই লুকিয়ে থাকে অনেক সম্ভাবনার বীজ। সময় এবং সুযোগ পেলে সেই সম্ভাবনার বীজ অঙ্কুরিত হয়, ডালপালা মিলে বিকশিত হয়ে বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়। তাই আমাদের নিজের ভেতরে লুকানো প্রতিভা আবিষ্কার করতে হবে। কোনটি ভালো লাগে আর কোন কাজে প্রবল আগ্রহ আছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। যে কাজের প্রতি আমার আকর্ষণ অনুভব করি, বুঝতে হবে সেই কাজটাতেই আমার আগ্রহ। তাই আগ্রহের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা ব্যক্তির ভেতর থেকেই আসে। ফলে কাজের প্রতি তৈরি হয় আন্তরিকতা। এ কারণে আমাদের আগ্রহের জায়গা খুঁজে বের করা জরুরী।
এটি সঙ্গে নিজের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য নিজের সামর্থ্য কি আছে তাও খুঁজে বের করতে হবে। নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে আমাদের সামর্থের উন্নয়ন ঘটাতে হবে অর্থাৎ আরো দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। সামর্থ্য হল জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ইত্যাদি সমন্বয়ে কোন বিশেষত্ব বা গুন কিংবা বলা যায়, কোন কাজ করতে পারার সক্ষমতা।
![]() |
| চিত্র; কাজ করার ইচ্ছা ও সক্ষমতা |
যেমন: ধরা যাক, শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা; কোন কোন দেশে কারো সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে সালামের মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়; আবার কোন দেশে কারো সঙ্গে দেখা হলে গুড মর্নিং অথবা গুড ইভিনিং জানিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়; কারো সঙ্গে দেখা হলে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে হয় এটি হল মূল্যবোধ, যার প্রকাশ এক এক দেশে এক এক রকম। সুতরাং আমরা বুঝতে পারছি, স্থান পরিবর্তনের কারণে মূল্যবোধ প্রকাশে পরিবর্তন ঘটতে পারে। আবার সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গেও অনেক সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তন হয়। এই কারণে আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিমাণ বলে বিদ্যমান মূল্যবোধ বিবেচনা রাখতে হয়। মনে রাখতে হবে, আমাদের আগ্রহ বা ইচ্ছার প্রতিফলনে মূল্যবোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে প্রভাব বিস্তার করে।
| সংগৃহীত চিত্র |
![]() |
EDUCATION BANGLA |



0 Comments