বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে

সংগ্রহীত চিত্র; প্রথম আলো

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অসাধারণ পারফরম্যান্সে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলার মেয়েরা। ভুটানকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে আজকের সেমিফাইনালটি রীতিমতো একপেশে করে তুলেছে তারা।

প্রথমার্ধেই তহুরা খাতুন ও অধিনায়ক সাবিনা খাতুন এর জোড়া গোলে বাংলাদেশ ৫-১ গোলে এগিয়ে যায়, যা জয়ের পথে একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোলের মাধ্যমে তহুরা পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। ডিফেন্ডার শিউলি আজিমও যোগ করেন একটি গোল, যা ম্যাচের চূড়ান্ত স্কোর ৭-১ এ নিয়ে যায়। তহুরার তিনটি গোলই বাঁ পায়ের শটে, এবং প্রথম দুটি গোল এসেছে বক্সের বাইরে থেকে।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ২০১৬ সালে ফাইনালে পৌঁছানোর পর ভারতের কাছে হেরে ফিরতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। তবে এবার তারা স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয় করে। সেই শিরোপা ধরে রাখার শেষ মঞ্চে আগামী ৩০ অক্টোবর বাংলাদেশ মোকাবিলা করবে নেপাল বা ভারতের মধ্যে যেকোনো একটিকে।

ম্যাচের শুরুতে মাত্র সপ্তম মিনিটেই গোল উৎসব শুরু হয়, যখন ঋতুপর্ণা চাকমার বাঁ পায়ের শটে প্রথম গোলটি আসে। তারপর, একের পর এক আক্রমণ ও গোলে ভুটান রক্ষণ ভেঙে পড়তে থাকে। তহুরা খাতুন দ্বিতীয় মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে ২-০ করেন। সাবিনাও তাঁর প্রথম গোলটি পান ২৫ মিনিটে, যা বাংলাদেশের জয়কে আরও সুসংহত করে।

প্রথমার্ধেই ভুটান একটি গোল শোধ করে, কিন্তু ততক্ষণে বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে গেছে। দ্বিতীয়ার্ধে ভুটান কিছু আক্রমণের চেষ্টা করলেও গোলরক্ষার চাপে তারা নিজেদের সেভাবে প্রকাশ করতে পারেনি। বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসী ও শক্তিশালী খেলোয়াড়রা ভুটানকে কোনোরকম সুযোগ না দিয়ে খেলার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে।

কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন এর কৌশলী নেতৃত্বে ৬৩ মিনিটে একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন, যা দলের বেঞ্চ শক্তির পরীক্ষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফাইনালে জয়ের আশা নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বাংলার মেয়েদের আরেকটি সাফল্যের।