![]() |
| গভীর রাতে সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর বাসায় ঢুকে এভাবে তছনছ করা হয়েছে চারটি কক্ষের জিনিসপত্র। আজ রোববার রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে , সংগ্রহীত ছবি: প্রথম আলো |
রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর বাসায় শনিবার গভীর রাতে একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। ঢাকা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে একদল লোক বাসার ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে প্রথমেই অগ্নিসংযোগ ঘটান। এরপর চারটি কক্ষের আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র তছনছ করেন এবং প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে বাসার ভেতরে অবস্থান করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, বের হওয়ার সময় তারা একটি কার্টন ও দুটি বাজারের ব্যাগে বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যান।
গাজী গ্রুপের একজন কর্মকর্তা ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে রাতেই রমনা থানায় যান। পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয় যে, সেখানে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযানে গিয়েছে। রোববার গাজী গ্রুপের সাথে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে, রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম ফারুক জানান যে, ডিবির একটি অভিযান চলছিল, কিন্তু বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “ডিবির কোনো দল ওই বাড়িতে অভিযানে যায়নি।”
নিরাপত্তাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন জানান, রাত দুইটার দিকে তিনটি মাইক্রোবাসে ১৫-২০ জন লোক বাসার সামনে এসে উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে দুজন পুলিশ পোশাক পরা ছিলেন, কিছু জন ডিবির জ্যাকেট পরে ছিলেন এবং বাকিরা সাধারণ পোশাক পরা ছিলেন। তারা পুলিশ পরিচয় দিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের গেট খুলতে বলেন, কিন্তু নিরাপত্তাকর্মীরা রাজি না হলে তারা তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন।
নিরাপত্তাকর্মী আবুল হোসেন বলেন, বাসায় প্রবেশ করেই তারা দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেন। এরপর তারা ব্যাপক ভাঙচুর চালান। আজ রোববার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দোতলা বাসার দ্বিতীয় তলার চারটি কক্ষের আসবাবপত্র এলোমেলোভাবে পড়ে আছে এবং আলমারি ভাঙচুর করা হয়েছে।
নিরাপত্তাকর্মী আবুল হোসেন আরও জানান, তারা ভেতরে ঢুকতেই বিশাল শব্দ করতে থাকে, যা পাশের বাসা থেকেও শোনা যায়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর, ভোর সাড়ে চারটার দিকে তারা বাসা থেকে বেরিয়ে যান।
পাশের বাসার এক নারী, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, জানান, বের হওয়ার সময় তারা একটি কার্টন ও দুটি ব্যাগে জিনিসপত্র ভরে নিয়ে যান এবং এলাকার এক নিরাপত্তাকর্মীর কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন, যেখানে লেখা ছিল যে তারা বাসা থেকে কিছু নেননি।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, গোলাম দস্তগীর গাজীর স্ত্রী হাসিনা গাজীকে গ্রেপ্তার করতে ওই বাসায় গিয়েছিল ডিবি, তবে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে গোলাম দস্তগীর গাজী কারাগারে আছেন এবং তাঁর স্ত্রী আত্মগোপনে আছেন।
এ ঘটনায় গাজী গ্রুপের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা প্রথমে ডাকাতির শিকার হয়েছেন মনে করেছিলেন। তবে পরে থানায় গিয়ে জানতে পারেন যে সেখানে ডিবির অভিযান চলছে।
এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে Education Bangla News।

0 Comments