রংপুরে জাতীয় পার্টির বিক্ষোভ-সমাবেশ

রংপুরে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন, যা মূলত ঢাকায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত হয়। আজ শনিবার দুপুরে রংপুর জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির আয়োজনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। সমাবেশের আগে বিক্ষোভ মিছিলটি রংপুর নগরের সেন্ট্রাল রোডের দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রেসক্লাব চত্বর, বেতপট্টি, এবং সুপারমার্কেটের পাশ দিয়ে পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

চিত্র সংগ্রহীত, প্রথম আলো


জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যানের বক্তব্য

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘অপরিচিত সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতায় আমাদের কার্যালয়ে আক্রমণ ও অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয়েছে। মনে রাখবেন, রংপুর ঢাকার মতো নয়। রংপুর হলো জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি, এবং এখানকার নেতা-কর্মীরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে সদা প্রস্তুত।’ তিনি নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতিতে পার্টি অফিসে উপস্থিত হতে হবে। রাজপথে লড়াই করতে হলে আমি গুলিও খেতে প্রস্তুত। আমরা দেশকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’

শান্তিপূর্ণ রাজনীতির বার্তা

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টি কখনো সহিংস রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমাদের পার্টি অফিসে আগুন দেওয়ার ইতিহাস নেই। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে রাজনীতি করতে চাই। কেউ যেন আমাদের দুর্বল ভাবতে না পারে। ’৯১ ও ’৯৬ সালের মতো আবার গর্জে ওঠার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।’

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

মোস্তাফিজার রহমান আরও বলেন, ‘রাজপথেই হবে আমাদের দেখা, স্লোগান হবে, মিছিল হবে, এবং রক্ত ঝরবে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আদর্শকে রক্ষা করতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত আছি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেই হবে।’

ভবিষ্যৎ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যাঁরা স্বপ্ন দেখছেন, তাঁদের স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে। কিন্তু ভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নিতে হবে। মানুষ যদি আপনাদের ভোট দেয়, আমরা আপনাদের সাদরে বরণ করব।’

সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও রংপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হোসেন, এবং হাসানুজ্জামান নাজিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।