সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন, এবার রোববার ও সোমবার সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়ে।

সংগৃহীত চিত্র,ঢাকা পোস্ট 


স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের দাবিতে কমিশন না করার প্রতিবাদে এই কর্মসূচির ঘোষণা এসেছে। আজ (শনিবার) ঢাকা কলেজে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর টিমের ফোকাল পার্সন এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জাকারিয়া বারী সাগর।

তিনি বলেন, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে অধিভুক্তি বাতিলের জন্য আন্দোলন করছি। আমাদের মূল দাবি হলো সাত কলেজের সমন্বয়ে একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবির প্রতি ধীরগতিতে সাড়া দিচ্ছে, তাই আমাদের আন্দোলন আরও জোরদার করা প্রয়োজন।"

সাগর আরও জানান, গত ২৫ অক্টোবর ঢাকার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা বৈঠক করেন। সেখানে আমাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয় এবং আমাদের দাবি পূর্ণ সমর্থন পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, "আমরা পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সঙ্গেও ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ করে যাচ্ছি। আমাদের দাবির যৌক্তিকতা সম্পর্কে তাদের সচেতন করছি এবং এর ফলে আমরা সর্বমহলে সমর্থন পেয়েছি।"

এদিকে, ৩১ অক্টোবর শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার সঙ্গে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন।

এ বৈঠকে দুই উপদেষ্টা সাত কলেজের জন্য পৃথক প্রশাসনিক ভবনে কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেন। তবে শিক্ষার্থীরা এটিকে তাদের দাবির সঠিক প্রতিফলন মনে না করায় বৈঠকটি কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। এরই মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়ে দেন, সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তই থাকবে, যদিও তাদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হবে।

সাত কলেজ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে সাগর বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং শিক্ষার্থীরা কেউই আর আমাদের অধিভুক্তি চাইছে না। আমরা নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে অটল থাকব। আমাদের আন্দোলনের এই ধারাবাহিকতায় সাত কলেজকে পিছিয়ে দেওয়ার যেকোনো পরিকল্পনা প্রতিহত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা আমাদের দাবি থেকে সরব না। দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিশন গঠন এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করতে হবে। যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহত করতে আমরা প্রস্তুত আছি।"

শিক্ষার্থীরা রোববার ও সোমবার সব একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করবেন বলে জানিয়েছেন।

এসব দিন কোনো ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না এবং সাত কলেজের সব ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও সমাবেশ হবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার কথাও জানান তিনি।